আজাদ কবির অস্ট্রেলিয়া থেকে :
জমকালো আয়োজনে ঢাকা সিডনি ইনসাইডারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিদের সঙ্গে ঢাকা সিডনি ইনসাইডার পরিবার ‘শুধু তথ্য দেওয়া নয়, বহু সাংস্কৃতিক সমাজকে সংযুক্ত ও ঐক্যবদ্ধ করাই গণমাধ্যমের বড় দায়িত্ব।
বহু সাংস্কৃতিক অস্ট্রেলিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের জীবন, সাফল্য, সমস্যা, সম্ভাবনা ও সমাজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে তুলে ধরার প্রত্যয় নিয়ে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে বাংলা ও ইংরেজি ভাষার ডিজিটাল নিউজ প্ল্যাটফর্ম ঢাকা সিডনি ইনসাইডার।
সিডনির হার্স্টভিল সিভিক থিয়েটারে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ৭ সেপ্টেম্বর সোমবার ঢাকা সিডনি ইনসাইডারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
বুধবার ০৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতি, বহুসাংস্কৃতিক সমাজ, কমিউনিটি নেতৃত্ব, আইন, শিক্ষা, ব্যবসা ও গণমাধ্যমের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের মূল আলোচনার বিষয় ছিল— “গণমাধ্যমের গুরুত্ব: তথ্য প্রদান, সংযোগ স্থাপন এবং বহুসাংস্কৃতিক সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ করা।”
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তএব্য রাখেন মাল্টিকালচারালিজম (বহুসংস্কৃতিবাদ)-এর সংসদীয় সচিব মার্ক বুটিগিগ এমএলসি,।
বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক সহকারী প্রেসিডেন্ট, এনএসডাব্লিউ পার্লামেন্ট শওকত মোসলমানি, ডেপুটি মেয়র মাসুদ চৌধুরী, কাউন্সিলার এলিজা রহমান, কাউন্সিলর মাসুদ খলিল ও সাবেক কাউন্সিলার শাহে জামান টিটু।
বক্তব্য রাখেন কমিউনিটি নেতা গামা আব্দুল কাদের, একুশে একাডেমির সভাপতি সুলতান মাহমুদ, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন, অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি মনিরুল হক জর্জ, কমিউনিটি নেতা শফিকুল আলম, বিশিষ্ট কলামিস্ট অজয় দাস গুপ্ত, কলামিস্ট ড. সাখাওয়াত নয়ন, কমিউনিটি নেতা ফজলুল হক সফিক, গ্রেস ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী পরিচালক সিমরিতা খাডকার, বিশিষ্ট আইনজীবি রাজদত্ত।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা সিডনি ইনসাইডারের সম্পাদক মন্ডলির সভাপতি ড. মো. সিরাজুল হক। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রধান সম্পাদক আজাদ কবির। অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করে বক্তব্য রাখেন নির্বাহঅ সম্পাদক রহমত উল্লাহ।
অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মধ্য থেকে বক্তব্য রাখেন মুক্তমঞ্চের সম্পাদক মো. নোমান শামীম, সিডনি বাংলা নিউজের সম্পাদক মিজানুর রহমান সুমন, অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ টেলিভিশন রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি অর্ক হাসান, স্বদেশ বার্তার সম্পাদক ফয়সল আজাদ, বাংলাদেশ মিডিয়া ফোরাম অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি হুমায়ুন কবির রোজ প্রমুখ।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগে গণমাধ্যমের দায়িত্ব শুধু সংবাদ প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।
একটি দায়িত্বশীল গণমাধ্যমকে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে যোগাযোগের সেতু হিসেবে কাজ করতে হবে।
বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার মতো বহুসাংস্কৃতিক সমাজে বিভিন্ন কমিউনিটির কণ্ঠস্বর তুলে ধরা, পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরি করা এবং সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
বক্তারা বহুসাংস্কৃতিক অস্ট্রেলিয়ায় গণমাধ্যমের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া এবং তাদের মূলধারার সমাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে কমিউনিটি মিডিয়ার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন বক্তারা।
তারা কমিউনিটির মানুষের কথা বলার জন্য শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তারা স্থানীয় সরকার ও বহুসাংস্কৃতিক কমিউনিটির মধ্যে যোগাযোগ তৈরিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন।
‘সংবাদ প্রকাশ করাই শেষ কথা নয়, টিকিয়ে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ’:
আলোচনায় গণমাধ্যমের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় উঠে আসে—সংবাদপত্র বা নিউজ প্ল্যাটফর্ম প্রকাশ করা যতটা সহজ, দীর্ঘমেয়াদে সেটিকে টিকিয়ে রাখা তার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন।
বক্তারা বলেন, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিস্তারের ফলে সংবাদ প্রকাশের সুযোগ ব্যাপকভাবে বেড়েছে।
কিন্তু এর পাশাপাশি তৈরি হয়েছে নতুন অনেক চ্যালেঞ্জ। পাঠকের আস্থা অর্জন, নির্ভুল ও যাচাই করা তথ্য প্রকাশ, দক্ষ সাংবাদিকতা বজায় রাখা, প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা এবং আর্থিকভাবে একটি সংবাদমাধ্যমকে টেকসই রাখা—সবকিছুই এখন বড় বিষয়।
বিশেষ করে কমিউনিটি মিডিয়ার ক্ষেত্রে শুধু সংবাদ প্রকাশ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না।
পাঠকের প্রয়োজন বুঝতে হবে, কমিউনিটির বিভিন্ন অংশের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে এবং একই সঙ্গে সাংবাদিকতার পেশাগত নীতি ও বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখতে হবে।
বক্তারা মনে করেন, একটি সংবাদমাধ্যমের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে পাঠকের বিশ্বাস, সংবাদে বৈচিত্র্য, পেশাদারিত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্বের ওপর।
বহুসাংস্কৃতিক সমাজে গণমাধ্যমের নতুন দায়িত্ব:
আলোচনার মূল বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পায় অস্ট্রেলিয়ার বহুসাংস্কৃতিক বাস্তবতা।
অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বিভিন্ন দেশের অভিবাসী জনগোষ্ঠী তাদের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নিয়ে সমাজের অংশ হয়ে উঠেছে।
এই বৈচিত্র্যকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরতে কমিউনিটি মিডিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বক্তারা বলেন, একটি কমিউনিটি সংবাদমাধ্যম একই সঙ্গে দুই ধরনের দায়িত্ব পালন করতে পারে।
একদিকে নিজস্ব কমিউনিটির মানুষের সমস্যা, সাফল্য ও অর্জন তুলে ধরা; অন্যদিকে সেই কমিউনিটির সঙ্গে বৃহত্তর অস্ট্রেলিয়ান সমাজের যোগাযোগ তৈরি করা।
বাংলাভাষী অস্ট্রেলিয়ানদের জন্য বাংলাদেশের সংবাদ, অস্ট্রেলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, অভিবাসন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, ব্যবসা, সংস্কৃতি, কমিউনিটি কার্যক্রম এবং স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন তথ্য সহজ ভাষায় তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার কথাও আলোচনায় উঠে আসে।
নতুন প্রত্যাশা নিয়ে ঢাকা সিডনি ইনসাইডার:
অনুষ্ঠানে বক্তারা ঢাকা সিডনি ইনসাইডারের আনুষ্ঠানিক যাত্রাকে স্বাগত জানান এবং নতুন এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে দায়িত্বশীল, নিরপেক্ষ ও পেশাদার সাংবাদিকতার মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
ঢাকা সিডনি ইনসাইডারের পক্ষ থেকে বলা হয়, শুধু সংবাদ প্রকাশ নয়—প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে বাংলাদেশ এবং অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তর সমাজের মধ্যে একটি কার্যকর যোগাযোগের সেতু তৈরি করাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য।
বাংলা ও ইংরেজি—দুই ভাষায় সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির যোগাযোগ আরও সহজ করার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার মূলধারার সমাজের কাছেও বাংলাদেশি কমিউনিটির গল্প, সাফল্য ও অবদান তুলে ধরতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।