Amaderjagaran || Daily Newspaper In Bangladesh

শিরোনাম:

১৬ই জুলাইকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘শহীদ আবু সাঈদ দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে...দিদারুল ভূঁইয়া রাজধানীর শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের সেকেন্ড-ইন কমান্ড বাপ্পি গ্রেফতার রাজধানীতে হাসপাতালের বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে ফেলতে হবে--ডিএনসিসি প্রশাসক বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের পদোন্নতির ক্ষেএে গঠিত সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের কার্যক্রমে নিরপেক্ষতা রাখুন- আব্দুল্লাহ জিয়া চট্টগ্রাম মডেল স্কুলে অভিভাবক-শিক্ষক মতবিনিময় সভা চকরিয়ায় বন্যার্তদের মাঝে বিজিবির উদ্যোগে ১,৫০০ খাদ্য সহায়তা বিতরণ সিলভারডেল স্কুলে অনিয়ম ও আর্থিক কেলেঙ্কারির মহোৎসবে বিপন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টান অস্ত্র কারখানার সন্ধান, বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদসহ মিন্টু বাহিনীর প্রধান আটক পাকিস্তানের ঝুঁকিপূর্ণ চাল আমদানি প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞদের মতামত বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন স্পেনের রাজপরিবার
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

১৬ই জুলাইকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘শহীদ আবু সাঈদ দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে...দিদারুল ভূঁইয়া

সাইফুল আলম সরকার, ঢাকা:

প্রকাশ : শুক্রবার, ১৭ জুলাই,২০২৬, ১২:৩৫ এ এম
১৬ই জুলাইকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘শহীদ আবু সাঈদ দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে...দিদারুল ভূঁইয়া

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি জনাব হাসনাত কাইয়ূম এর সভাপতিত্ব গতকাল ১৬ জুলাই ২০২৬ বিকেলে তোপখানা রোডের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে "শহীদ আবু সাঈদ দিবস: আত্মত্যাগ, অভ্যুত্থান, পরিণতি" শীর্ষক একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সদস্য লামিয়া ইসলাম। ​২০২৪ সালের এই দিনে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পুলিশের বুলেটের সামনে বুক পেতে দাঁড়িয়েছিলেন শহীদ আবু সাঈদ।

দুই হাত প্রসারিত করে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করার সেই দুঃসাহসিক প্রতিরোধই সেদিন ছাত্র-জনতাকে নতুন করে সাহস জুগিয়েছিল, আর সেই সাহস থেকেই জন্ম নিয়েছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থান।

বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন আজকের এই দিনে শহীদ আবু সাঈদ এবং জুলাই অভ্যুত্থানের সকল শহীদ ও আহত ভাই-বোনদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছে।

​আবু সাঈদের রক্ত সেদিন শুধু একটি প্রাণের ক্ষয় ছিল না; তা ছিল একটি জাতির বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়ার আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।

হাজারো মানুষ জীবন দিয়েছেন, অসংখ্য মানুষ পঙ্গুত্ব ও দুঃসহ যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছেন সেই আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য।

কিন্তু দুই বছর পার হয়ে যাওয়ার পরও রাষ্ট্র সংস্কারের যে অঙ্গীকার নিয়ে এই অভ্যুত্থান হয়েছিল, তার বাস্তবায়নে অগ্রগতি অত্যন্ত হতাশাজনক।

​জুলাই সনদের যৌক্তিক ও টেকসই বাস্তবায়ন এখনো অনিশ্চিত। রাষ্ট্র ক্ষমতার কাঠামোগত সংস্কারের বদলে পুরনো রাজনৈতিক চর্চা আর গোষ্ঠীস্বার্থের হিসাব-নিকাশ নতুন করে মাথাচাড়া দিচ্ছে বলে আমরা মনে করি।

শহীদ পরিবার ও আহতদের পুনর্বাসন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিতে যে আন্তরিকতা থাকার কথা ছিল, বাস্তবে তার বহু ক্ষেত্রে ঘাটতি স্পষ্ট। এই বাস্তবতা আমাদের গভীরভাবে ব্যথিত ও উদ্বিগ্ন করে।

​বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন মনে করে, আবু সাঈদসহ জুলাই অভ্যুত্থানের সকল শহীদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা প্রদর্শনের একমাত্র পথ হলো তাঁদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে প্রতিষ্ঠিত করা।

শুধু স্মরণসভা আর বাণী দিয়ে এই ঋণ শোধ হয় না। রাষ্ট্র কাঠামোর প্রকৃত ও কাঠামোগত সংস্কার, জুলাই সনদের পূর্ণ ও অবিলম্বে বাস্তবায়ন এবং সকল হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই এই মুহূর্তের সবচেয়ে জরুরি দাবি। ​

আলোচনা অনুষ্ঠানে আইন বিষয়ক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম মামুন বলেন, "ইতিহাসে বারবার সমাজের জন্য মানুষ জীবন দিয়ে যায়, কিন্তু সমাজ তার কোনো সুফল পায় না।" ​

সংগঠনের নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ নাসির উদ্দিন বলেন, "ছাত্রদের সাথে সাথে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষও জুলাই অভ্যুত্থানে রক্ত দিয়েছিল একটি বৈষম্যহীন দেশ পাওয়ার আশায়।

সেই স্বপ্ন পূরণ না হওয়ায় রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনকেই শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির মূল দায়িত্ব নিতে হবে।" ​

সংগঠনের নারী বিষয়ক সহ-সম্পাদক মনোয়ারা রহমান বলেন, "রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূমকে দেশের মানুষকে একত্রিত করে এই রাষ্ট্রকে সংকট থেকে উদ্ধার করার গুরুদায়িত্ব নিতে হবে।" ​

সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল শিকদার তাঁর বক্তব্যে বলেন, "জুলাই আন্দোলনের সামনে থাকা অনেকেই আজ ক্ষুদ্র ব্যক্তিগত স্বার্থের কাছে বিক্রি হয়ে যাওয়ার কারণেই আবু সাঈদের আত্মত্যাগ অসম্মানিত হচ্ছে।" ​যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদারুল ভূঁইয়া বলেন, "সরকার চায় না মানুষ আবু সাঈদকে মনে রাখুক।

সেজন্যই আমাদের সবার দায়িত্ব হচ্ছে শহীদ আবু সাঈদ এবং জুলাই অভ্যুত্থানকে সামনে রেখে এই সমাজ ও রাষ্ট্রকে সংস্কার করার জন্য দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা।"

​রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সদস্য সৈয়দ হাসিব উদ্দীন হোসেন বলেন, "লক্ষ লক্ষ আবু সাঈদ এখনো দেশের জন্য বুক পেতে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তাদের কথা মাথায় রেখে আমাদেরকে এই দেশকে মর্যাদার বাংলাদেশ করার পক্ষে ইস্পাতকঠিন ঐক্য সৃষ্টি করতে হবে।" ​

সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম বলেন, "যে সরকার ১৬ই জুলাইকে ‘শহীদ দিবস’ হিসেবে পালন করার ঘোষণা দিয়েছে, তাদের কাছে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন এই দিবসটিকে সুনির্দিষ্টভাবে ‘শহীদ আবু সাঈদ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার দাবি জানাচ্ছে।

বাংলাদেশে বুলেট শেষ হয়ে যেতে পারে, কিন্তু কোনোদিন বুলেটের মুখোমুখি হওয়া বুকের অভাব হয়নি। আবু সাঈদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশে এই শিক্ষা দিয়ে গেছে যে, এই দেশে আর কোনোদিন ফ্যাসিবাদের উত্থান হতে দেওয়া হবে না।

সেই চেষ্টা করা হলে তাদেরকে ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। নতুন নেতৃত্বকে মনে রাখতে হবে যে, জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে বা কুযুক্তি দিয়ে রাষ্ট্রের সংস্কারের দায়িত্ব পালন না করলে, যে জনগণ তাদেরকে আসনে বসিয়েছেন—সেই জনগণই আবার তাদেরকে টেনে নামাবেন।" ​

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন রাষ্ট্র পরিচালনায় যুক্ত সকল পক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে—শহীদদের আত্মত্যাগকে কেবল রাজনৈতিক বাগাড়ম্বরে সীমাবদ্ধ না রেখে দ্রুত বাস্তব পদক্ষেপে রূপান্তরিত করুন।

বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন শহীদ আবু সাঈদের চেতনা বুকে ধারণ করে রাষ্ট্র সংস্কারের এই লড়াই আপসহীনভাবে চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে।

সম্পর্কিত

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)